প্রচুর মহিলা ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন। ভারতবর্ষে বিলগ্নিকরনের পর থেকে ডিজিটাল লেনদেন একটি বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হয়ে দারিয়েছে, যেখানে দুই পক্ষই ডিজিটাল জন্ত্র ব্যবহার করেন অর্থ দেবার জন্য ও নেবার জন্য।

ডিজিটাল অর্থনীতি মহিলাদের নিজেদের কর্ম সম্পাদন করতে অনেক প্রকারে সুবিধা দেয়, কিন্তু সেই সুবিধা তুলে দিতে হলে এটিএম, কেনাকাটার স্থলে আদান প্রদান এমন কি কার্ড (ডেবিট ও পূর্ব হতে টাকাভরা) – এইগুলিও তাদের হাতে তুলে দিতে হয়, এবং এগুলির সবকটির নেপথ্যে রয়েছে মবাইল ফোন।

সুরক্ষা বিষয়ক সতর্কতা

মহিলারা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড অনেক জায়গায় ব্যবহার করছেঙ, কিন্তু তাদের বেসির ভাগেরই এটা জানা নেই, যে অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে কি দেখে রাখতে হয়, বা কি জিনিস গপন রাখতে হয়। অনেক মহিলা, যাদের যন্ত্র বিষয়ক ধারনা কম, তাদের যান্ত্রিক উপায় গ্রহণ করতে হয়েছে, আর তাদের ক্ষেত্রেই দুষ্কৃতীরা সুযোগ নেয়।

অনলাইন ব্যাঙ্কিং

  • সাইবার দুষ্কৃতীরা মিথ্যা ফোন ইত্যাদির দ্বারা মহিলাদের থেকে প্রায়শই তাদের কার্ড ব্য ব্যাঙ্কিং এর গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে চায়, এই সব বলে যে তারা ব্যাঙ্ক থেকে ফোন করছে আধার সংযোগ করার জন্য। আবার এমনও বলা হয় যে তার একাউন্টে অতিরিক্ত টাকা এসে যাবার কারনে আপনার একাউন্টে টাকা রাখবেন।
  • মহিলা নূতন ব্যবসা উদ্যোগীদের কাছে সাপ্লায়ারের নাম করে এমন মেইল আসে, যেখানে বলা হয় যে যেখানে আপনি টাকা জমা দিতেন, সেই একাউন্ট নম্বর পালটে গেছে, আর এবার থেকে সমস্ত টাকা একটা অন্য একাউন্টে দিতে হবে, যেটা প্রকৃতপক্ষে দুষ্কৃতিদের নম্বর। মেইলে বাকি সমস্ত তথ্য এমন করে সাজিয়ে রাখা থাকে, যে আপনি মনে করবেন যেন কম্পানি থেকেই মেইলটা এসেছে। মেইলে আপনাকে একটি অন্যদেশে টাকা পাঠানোর জন্য অনুরধও থাকবে।
  • আপনার পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেবার মত মালিসিয়াস ইউআরএল ও দেবে এরা।
  • অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা একি তথ্য সমস্ত ব্যাংক একাউন্টে দিয়ে রাখেন। সেই ক্ষেত্রে দুষ্কৃতিদের আর সুবিধা হয়ে যায়।

মবাইল ব্যাঙ্কিং

  • অনেক সময়ে আপনি ঠিকঠাক না জানার জন্য ভুল বাঙ্কিং অ্যাপ ডাউনলোড করে থাকেন। আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না সেই অ্যাপের মাধ্যমে কাজ করা সময়ে, কারন সামান্য বানান ভেদে তারা সেই ব্যাঙ্কের লোগো ইত্যাদিই ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু আপনি খুব ভুল হাতে পরে গেছেন।
  • মহিলারা অনেক সময়ে তাদের বন্ধুদের কাছ থেকে শোনেন যে কোন অ্যাপ থেকে কেনাকাটি করলে প্রচুর ছার পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তারা সেই অ্যাপ থেকে সব কেনাকাটা করেন, কিন্ত বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সেই সমস্ত অ্যাপ আপনার ফোনে একটি এসএমএস পাঠিয়ে আপনার সকল তথ্য চুরি করে নেয়।
  • টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে জালিয়াতি (SMiShing) একটি অতিরিক্ত বেশী পরিমানে ব্যবহৃত একটি উপায়, যেখানে আপনাকে মিথ্যা মেসেজ পাঠানো হয় একটি লিঙ্ক দিয়ে, আর সেই লিঙ্কে ঢুকে আপনি আপনার সমস্ত তথ্য দিয়ে দেন।

ই-ওয়ালেটঃ

  • যেহেতু অনেক গুলি ই-ওয়ালেট আছে, সেহেতু একটি নতুন ব্যবহারকারীর কাছে নির্ভরযোগ্য ই-ওয়ালেট খুঁজে নেওয়া খুব দুস্কর ব্যপার হয়ে যায়। ফলত, সে কোন একটি জাল ই-ওয়ালেটে গিয়ে থামে। সাধারনত বন্ধুদের থেকে এই ই-ওয়ালেটের সন্ধান পেয়ে থাকে সে, যার মাধ্যমে কেনাকাটায় বা সিনেমার টিকিট কাটলে সাশ্রয় হতে পারে।
  • ই-ওয়ালেট পরিষেবা গাড়ি বুকিং, খাবার দাবারে ছাড়, হোটেল বুকিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে মহিলারা বেশী ব্যবহার করে থাকেন। জাল ই-ওয়ালেট পরিষেবা ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তৃতীয় পার্টির বিপদ বেড়ে যায়। আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য, ব্যাঙ্কিং তথ্য বা যা কিছু সেই ই-ওয়ালেটের সাথে যুক্ত, সব কিছুই বিপদের মুখোমুখি।

আধার নির্ভর ব্যয়

  • আধার নির্ভর ব্যয় আপনার বায়োমেট্রিক পরিচিতিকে বিপদেরসম্মুখিন করে দিতে পারে, যদি কোন সাইবার ক্রিমিনাল সেই লেনদেনের যাবতীয় তথ্য চুরি করে নেয়।

বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে সমূহ বিপদ কি করে আটকাবেন

  • আপনার পাসওয়ার্ডটিকে নম্বর ও চিহ্ন মিস্রিত, এমনকি উচু ও নিচু হরফ মিলিয়ে রাখুন।
  • সব অনলাইন একাউন্টের ক্ষেত্রে একি নাম বা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না।
  • পাসওয়ার্ড যত শীঘ্র সম্ভব পরিবর্তন করুন, তবে তিন মাসে একবার করবেনই।
  • কখনও নিজের পাসওয়ার্ড বা ইত্যাদি তথ্য কারুকে প্রদান করবেন না।
  • সকল সময়ে কাজের শেষে ব্যাঙ্কের সাইট বা ক্রেডিট কার্ডের সাইট থেকে লগ আউট করুন।
  • আপনার কম্পিউটারকে নাম বা পাসওয়ার্ড মনে রাখতে দেবেন না।
  • যখন সুরক্ষার প্রশ্ন বাছছেন, তখন মিথ্যা উত্তর দিন এবং মনে করে রেখে দিন, আপনি কি উত্তর দিলেন।
  • প্রতিটি সুরক্ষিত কেনাকাটা করার সময়ে “https://.” অবশ্যই দেখে নেবেন। যাদের ওয়েবসাইট “http” দিয়ে শুরু, তাদের বিশ্বাস করবেন না।
  • ইন্টারনেটের মাধ্যমে যা কেনাকাটি করছেন, তার মাসে মাসে ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে মিলিয়ে দেখে নেবেন। যদি কোন মিথ্যাচার দেখেন, তবে তৎক্ষণাৎ কার্ড পরিষেবায় যোগাযোগ করুন।
  • জেনে রাখুন আপনার কোন ক্রেডিট কার্ডে কত টাকা জালিয়াতি থেকে সুরক্ষা আছে।
  • সব সময়ে আপনার অ্যান্টি-ভাইরাস এবং ফায়ারঅওাল সিকিউরিটি পরিষেবাকে আপডেট রাখুন।
  • আপনার অ্যান্টিভাইরাস এবং ফায়ারঅওালের অন্তিম আপডেটটি ডাউনলোড করুন এবং ব্যবহার করুন, যাতে হ্যাকারদের জালিয়াতি থেকে আপনি বাঁচতে পারেন।
  • আপনার কম্পিউটারে সব সময়ে ভাইরাস স্ক্যান করুন।
  • অ্যাডের মাধ্যমে আপনার সিস্টেমে স্পাইওয়ের ঢুকতে পারে এবগ তা আপনার সব গোপন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। তাই অ্যাড ব্লক করার সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
  • অয়ান ক্লিক অর্ডার এবং সুলভ খরচ, এই দুটি পরিষেবা যতটা পারেন কম ব্যবহার করুন। এই বিষয়টিতে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি হয়।
  • আপনার ইন্টারনেট ব্রাউসারের শেষ ভারসান ব্যবহার করুন। তারা সব সময়ে অন্তিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাই আপনি যদি আপনার ব্রাউসার কে আপডেট রাখেন, তবে সব কিছু সুরক্ষিত থাকবে।

Source:

Page Rating (Votes : 0)
Your rating: